মুন্সীগন্জ জেলায় অ‌নেক শিক্ষা প্র‌তিষ্টা‌নে শহীদ মিনার নেই ।

0
66

মোঃলিটন মাহমুদ মুন্সীগন্জ প্রতিনিধি ঃ মুন্সীগন্জ জেলায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। মহান ভাষা দিবসের দিন এলাকার হাজারো শিক্ষার্থীকে অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ না করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ১৯৫২ সালের মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢালিয়ে দিয়েছিলেন এদেশে তরুণ সমাজ। সেসব ভাষা সৈনিকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে শহীদ মিনার। আমাদের ভাষা আন্দোলনকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এ গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। ২১ ফেব্রুয়ারীতে এদেশের সকল শ্রেণীর পেশার মানুষ বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন। ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পেরিয়ে গেলেও উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। এক তথ্যে জানা গেছে,জেলায় সর্ব‌মোট ৬২৬ টি শিক্ষা প্র‌তিষ্টান অা‌ছে । সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৪৯ টি ,মাধ্য‌মিক বিদ্যালয় ৮৮ টি,ক‌লেজ ১৬ টি ,মাদ্রাসা ২৯ টি মধ্যে মাত্র ২৬টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। এছাড়া ৭টি কলেজ,২৫টি মাধ্যমিক,৪টি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২৪টি মাদ্রাসার মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটিতে শহীদ মিনার থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই। উপজেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দিবসটি পালনের লক্ষে ওইদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রভাতফেরী করে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে অবস্থিত শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অস্থায়ীভাবে চেয়ার,টেবিল,কলা গাছ,কাঠ,বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করে। টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বায়হাল সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সা‌বিনা সুলতানা বলেন,অনেক বার বিভিন্ন জায়গার শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য আবেদন করেও কোন ফল পাইনি। বাধ্য হয়ে প্রতি বছর কলার গাছ ও ইট দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী লিমা পারভীন জানাই,ভাষা দিবসে আমরা কলার গাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। এলাকার অভিভাবকগণ নতুন প্রজন্মকে বঞ্চিত না করে দ্রুত নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মানের দাবি জানান। এব্যাপারে জেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই মুজিব বর্ষের মধ্যে অবশ্যই নির্মাণ করা হবে।