গত ২৩/০২/২০২০ইং তারিখে হবিগঞ্জ মাননীয় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দৈনিক খোয়াই পত্রিকার বিরুদ্ধে ‘পঞ্চাশ লক্ষ’ টাকার মানহানীর মামলা আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ওসি, হবিগঞ্জকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করেন।

0
113

স্টাফ রিপোর্টারঃ
দরখাস্তকারীঃ মোঃ জমির আলী, পিতা-মৃত মকবুল হোসেন, সাং-
তেতৈয়া, হাং সাং-পশ্চিম ভাদৈ, ৫নং গোপায়া ইউ/পি, পোঃ-বহুলা,
থানা ও জেলা-হবিগঞ্জ———-বাদী। বিবাদীর নাম ঃ ১। জুয়েল চৌধুরী,
পিতা-মৃত সাজিদুর রহমান চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক খোয়াই,
টাউন হল রোড, হবিগঞ্জ। ২। শামীম আহসান, পিতা-অজ্ঞাত, সম্পাদক ও
প্রকাশক, দৈনিক খোয়াই, টাউন হল রোড, হবিগঞ্জ। ৩। সাইফ
আহসান, পিতা-শামীম আহসান, বার্তা ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, দৈনিক
খোয়াই, টাউন হল রোড, হবিগঞ্জ——আসামীগণ। ঘটনার স্থান, সময় ও
তারিখঃ বিগত ২২/১১/২০১৯ইং রোজ শুক্রবার যেকোন সময় দৈনিক খোয়াই
পত্রিকায়।
মোকদ্দমার ধারাঃ- ৫০০/৫০১ দঃ বিঃ।
স্বাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানাঃ ১। বাদী, ২। মোছাঃ সাফিয়া বেগম,
স্বামী-মোঃ জমির আলী, ৩। হাফেজ মোহাম্মদ আলী স্বপন, পিতা-জমির
আলী, সর্ব সাং-তেতৈয়া, হাং সাং-পশ্চিম ভাদৈ, ৫নং গোপায়া ইউ/পি,
৪। মাসুক মিয়া, পিতা-মৃত মকবুল হোসেন, সাং-তেতৈয়া, ৫নং
গোপায়া ইউ/পি, থানা ও জেলা-হবিগঞ্জ।
নিবেদন এই যে,
হুজুর আসামীগণ অপবাদকারী, পরনিন্দাকারী ও সম্মানিত ব্যক্তির চরিত্র
হননকারী প্রকৃতির লোক বটে। তাহারা টাকার বিনিময়ে অহরহ মিথ্যা
সংবাদ পরিবেশন করিয়া সম্মানী লোকদের সম্মান হানী ঘটাইতেছে।
পক্ষান্তরে আমি একজন নিরীহ, সম্মানী ও ভদ্রলোক প্রকৃতির লোক বটি।
১নং আসামী দৈনিক খোয়াই পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও সংবাদ দাতা, সে
দীর্ঘ্যদিন যাবত নিজেকে আইনজীবী সহকারী পরিচয় দিয়া আদালত,
থানা, হাসপাতাল সহ সরকারী-বেসরকারী নানান দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য
সহ বিভিন্ন লোকের নিকট হইতে
প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে বহু টাকার মালিক
হইয়াছে। তাহার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতের বিচারকের দস্তখত জাল করিয়া
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর জামিন নামা জেলা কারাগারে পাঠাইয়া মুক্ত করার

মামলা সহ একাধিক মামলা বিজ্ঞ নারী-শিশু আদালত সহ একাধিক আদালতে
মামলা বিচারাধীন আছে।
২নং আসামী দৈনিক খোয়াই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক, ৩নং
আসামী দৈনিক খোয়াই পত্রিকার বার্তা ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। হুজুর
আসামীগণ আমি ও আমার পরিবারের মান হানি করার হীন উদ্দেশ্যে গত
২২/১১/২০১৯ইং তারিখ রোজ শুক্রবার দৈনিক খোয়াই পত্রিকার প্রথম পাতায়
‘‘হবিগঞ্জে একাধিকবার কারাভোগের পরও থেমে নেই জমির আলীর
অপকর্ম” নামীয় শিরোনামে একখানা মিথ্যা ও মানহানীকর সংবাদ
প্রকাশ করেন। উক্ত প্রকাশিত সংবাদে আমি ও আমার পরিবার সম্পর্কে
সংবাদের একস্থানে উল্লেখ করেন যে, ‘‘প্রায় আট বছর আগে
শায়েস্তাগঞ্জের একটি চুরির ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর থানার পুলিশের
নজরে আসে জমির আলী। এরপর থেকে তিনি শুরু করেন পুলিশের
সোর্সের কাজ। পরে তিনি যুক্ত হয় আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)
ফাউন্ডেশনের হবিগঞ্জ জোনাল কার্য নির্বাহী কমিটিতে। নিজেকে
ঐ কমিটির সভাপতি বলেও দাবী করে জমির আলী। শুধু তাই নয় জাতীয়
ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের সভাপতি দাবী করে ‘মুদি দোকান
থেকে অফিস পাড়া’ ধাপিয়ে বেড়ায় সর্বত্র। সাংবাদিক ও
মানবাদিকার কর্মী এ দুটো পরিচয়ে ঘুরে গেছে তার ভাগ্যের চাকা।
বিভ্রান্তি আর ধাধায় ফেলে ‘আচ্ছা-আচ্ছা’ লোকদেরও কাবু করছে
সে। যদিও এসব বিষয় অস্বীকার করেছেন তিনি। মানুষকে সাহায্যের
নামে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আসকের পেডে নোটিশ করে
অফিসে তলব করে আদায় করে কাড়ি কাড়ি টাকা। সর্বদাই তার বুক
পকেটে বিভিন্ন সংস্থার কার্ড ঝুলিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে
প্রতারনা করে আসছে। তার এসব অপকর্মের সংবাদ স্থানীয় ও জাতীয়
পত্রিকায় প্রকাশ হলে, সে কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও পুনরায় যেই
সেই।’’ এই মর্মে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া. অশালীন ও চরম
মানহানীকর সংবাদ আসামীদের পত্রিকা দৈনিক খোয়াই-এ ঘটনার
তারিখে মুদ্রণ, প্রচার ও জনসাধারণের কাছে বিক্রি
করিয়াছেন। আমি হবিগঞ্জ সদরস্থ আমার বসত বাড়ীতে বসিয়া আমার
স্কুল পড়–য়া পুত্র ও সাক্ষীগণের মাধ্যমে উক্ত মিথ্যা, মানহানীকর সংবাদ
শুনিয়া বিমর্ষ ও সংক্ষুব্ধ হই। উক্ত পত্রিকার উপরোক্ত সংবাদের কোন কিছুই
এমনকি সামান্যতমও আসামীদের কথিত প্রমাণাদি বিবরণে উল্লেখ নাই।
এমনকি সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী আসামীগণ আমার কিংবা
আমার পরিবারের কাহারো কোন বক্তব্য নেন নাই। প্রকৃতপক্ষে আমি
‘জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন’ এর হবিগঞ্জ জেলা শাখার
সভাপতি এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সংবাদ
ম্যাগাজিন ‘অপরাধ বিচিত্রার’ হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। আমি এ
সংগঠন ও পত্রিকার সাথে জড়িত থেকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক
কাজে অংশগ্রহণ করিয়া গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতেছি।
প্রমাণ স্বরূপ সংগঠনগুলো আমাকে নানান সম্মাননা সহ পরিচয় পত্র ও
নিয়োগপত্র প্রদান করিয়াছেন। ইহাতে প্রতীয়মান হয় যে, আসামীগণ

সত্য গোপন করে, আমি ও আমার পরিবারের মানহানী করার হীন উদ্দেশ্যে
পত্রিকায় প্রকাশিত সকল বক্তব্য নিজেরা কাল্পনিকভাবে সৃষ্টি করিয়াছেন
এবং উপরোক্ত সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা, মনগড়া ও ভিত্তিহীন। অশালীন ও চরম
মানহানীকর জেনেও পরস্পর যোগসাজসে আসামীদের পত্রিকায় মুদ্রণ,
প্রকাশ, প্রচার ও বিক্রি করিয়াছেন। উক্ত পত্রিকার প্রায় সহস্রাধিক কপি
সমগ্র হবিগঞ্জ জেলায় বিক্রি ও প্রকাশিত হইয়াছে। আসামীগণ প্রাপ্ত
বয়স্ক, শিক্ষিত, সচেতন ও আইনকানুন সম্পর্কে অবগত থাকা স্বত্ত্বেও
উপরোক্ত বক্তব্য অশালীন ও মানহানীকর জেনেও পত্রিকায় মুদ্রণ ও প্রকাশ
করিয়াছেন। আমি ইতোমধ্যে কয়েকটি পত্রিকায় ঐ সংবাদের তীব্র
প্রতিবাদও জ্ঞাপন করিয়াছি।
হুজুর আমি একজন দ্বীনদার, ঈমানদার, ফরহেজগার মানুষ বটে। আমার
একপুত্র কোরআনে হাফেজ। অপর পুত্র হবিগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলে দশম
শ্রেণিতে পড়ে এবং মেয়ে কবির কলেজে অধ্যয়নরত আছে। সর্বোপরি
আমি হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় একজন অত্যান্ত সুপরিচিত, শ্রদ্ধেয় ও
সুনামধন্য ব্যক্তি বটি। আসামীগণ কাল্পনিকভাবে নিজেরা মিথ্যা সংবাদ
সৃষ্টি করিয়া অশালীন ও মানহানীকর বক্তব্য পত্রিকার মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলার
জনসাধারণের নিকট মুদ্রণ, বিক্রয় ও প্রকাশ করায় আমি ও আমার পরিবারের
৫০,০০,০০০/-(পঁঞ্চাশ লক্ষ) টাকার মানহানী হইয়াছে। আমি উপরোক্ত মিথ্যা
সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ করে একখানা প্রতিবাদ লিপি এবং উক্ত মিথ্যা
সংবাদ প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য বিগত
১০/০২/২০২০ইং তারিখে লিগ্যাল নোটিশ রেজিষ্ট্রি ডাক যোগে
আসামীদের বরাবরে প্রেরণ করি। আসামীগণ উক্ত লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্ত
হইলেও উপরোক্ত মানহানীকর বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা প্রার্থনা না করায়,
আসামীদের প্রকাশিত সংবাদে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায়
কিছুটা বিলম্বে বিজ্ঞ আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের
করিলাম। আমার সাক্ষী আছে। বিচারকালে সাক্ষীগণ ঘটনার বিস্তারিত
প্রমাণ করিবেন।
অবস্থাধীন প্রার্থনা, হুজুর কৃপা বিতরণে আসামীদের বিরুদ্ধে
গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করিয়া সুবিচার করিতে মর্জি হয়। ইতি,
তাং-২৩-০২/২০২০ইং। [অপরাধ বিচিত্রা অনুসন্ধান চলমান]