রাত ১১:০৭, মঙ্গলবার, ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ১১ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

চলতি মাসেই শেষ হবে ২১ আগস্ট মামলার বিচার

47

  ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার এই মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান বাসস এর সঙ্গে আলাপকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ভয়াবহ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা দুই মামলার বিচার এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে আসামীপক্ষ কালক্ষেপনে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। আসামীপক্ষ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে সময় ক্ষেপন না করলে আরো আগেই এ মামলার বিচার ও নিস্পত্তি হতো।
সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, আসামীপক্ষ এ মামলায় আইনে প্রদত্ত সব ধরণের সূযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন। ভয়াবহ ওই গ্রেনেড হামলার শিকার বিচারপ্রার্থীগন ন্যায়বিচারের আশায় রয়েছেন।
রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে পৃথক মামলায় একই সঙ্গে বিচার চলছে। মামলায় এ পর্যন্ত ৪৩ আসামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ হয়েছে। আগামী ধার্য তারিখ রয়েছে ৬, ৭ ও ৮ আগস্ট। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ ৬ আগস্ট এ মামলার অন্যতম আসামী সাবেক উপমন্ত্রী বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুর পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ হবে। ওইদিন তারপক্ষে আইনি পয়েন্টে যুক্তিপেশ করবেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। ইতোমধ্যে তারপক্ষে সাত কার্যদিবসে তিনি নিজেসহ এডভোকেট এস.এম শাহজাহান, রফিকুল ইসলাম যুক্তিতর্ক পেশ করেন। এরপরই আসামী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শুরু হবে। এ আসামীর যুক্তিতর্ক পেশ শেষ হলে আসামীপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ সমাপ্ত হবে।
এ মামলার প্রসিকিউশনের অন্যতম সদস্য আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল বাসস’কে জানান, ২১ আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামীর সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে ৩ জন আসামীর অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ৩ আসামী হলেন- জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও শরীফ সাহেদুল আলম বিপুল। এখন ৪৯ আসামীর বিচার চলছে। এর মধ্যে এখনো ১৮ জন পলাতক। আসামীদের মধ্যে ৪৫ জনের যুক্তিতর্ক পেশ হবে। ইতোমধ্যে ৪৩ জনের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে।
প্রসিকিউশনের সদস্য এডভোকেট ফারহানা রেজা বাসস’কে বলেন, মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার পর পলাতক আসামীদের বিষয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিসহ সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। এরমধ্যে যাদের বিষয়ে আইনে সর্বোচ্চ সাজা হওয়ার মতো ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিল। এ আইনজীবীরা পলাতকদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন। এ আসামীরা হলেন-মাওলানা তাজউদ্দিন, তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মো.হানিফ, মহিবুল মুত্তাকীন, আনিসুল মুরসালিন, মুফতি শফিকুর রহামন, রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু, জাহাঙ্গির আলম বদর, মো. খলিল, মো. ইকবাল, মাওলানা লিটন ও মুফতি আবদুল হাই।
ফারহানা বলেন, পলাতক ১৮ জনের মধ্যে চারজন আসামীর বিষয়ে “রাষ্ট্র নিযুক্ত” আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়নি। তারা হচ্ছেন-আসামী সাবেক সেনা কর্মকর্তা এটিএম আমিন ও সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান খান ও খান সাঈদ হাসান। এ চার আসামীর আইন অনুযায়ি সর্বোচ্চ সাজা তথা মৃত্যুদন্ড হতে পারে এমন কোন ধারায় অভিযোগ গঠন হয়নি। তাই তারা ‘স্ট্যাট ডিফেন্স বা রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী’ সুবিধা পাচ্ছেন না বলে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
উল্লেখ্য-এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামীপক্ষে সাক্ষিদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
বিচারের মূখোমূখি থাকা ৪৯ আসামির মধ্যে জামিনে রয়েছেন- বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডি’র সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ অন্যরা কারাগারে রয়েছেন।
বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমান।
তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।(বাসস)



sky television /স্কাই টিভি


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *