রাত ১:২৯, রবিবার, ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স দেবে সরকার

75

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানির বিধান রেখে ‘স্বর্ণ নীতিমালা ২০১৮’ অনুমোদন করেছে অর্থনৈতিকবিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

তবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভা থেকে এই নীতিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বুধবার (২৩ মে) অর্থনৈতিকবিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এই নীতিমালা অনুমোদনের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন স্বর্ণ আমদানি করব, এত দিন তো আমদানি হতো না, সব স্মাগল হতো। কোনো দিন কোনো স্বর্ণ আমদানি এই দেশে হয়নি।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, নীতিমালাটি এখন মন্ত্রিসভায় যাবে, সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। নীতিমালা পাস হলে স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে।

বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে স্বর্ণ ব্যবহার হয় এবং এর পুরোটাই বিদেশ থেকে আনতে হয়। কিন্তু এই আমদানি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ্ব নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চোরাই স্বর্ণ দিয়েই চাহিদা মেটানো হয়। এই অবস্থায় স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা সহজ করার দাবি ছিল ব্যবসায়ীদের।

অনুমোদনের জন্য পাঠানো চূড়ান্ত খসড়া নীতিমালায় বলা হয়, অনুমোদিত ডিলার সরাসরি স্বর্ণের বার আমদানি করতে পারবে। তবে ডিলার স্বর্ণের বার ছাড়া কোনো স্বর্ণালঙ্কার বা অন্য কোনো ফর্মে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবে না।

স্বর্ণের বার আমদানির সময় ডিলার বন্ড সুবিধা নিতে পারবে। তারা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে স্বর্ণের বার বিক্রি করবে।

তবে স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া চাহিদার বিপরীতে স্বর্ণের বার আমদানির আগে সম্ভাব্য কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়ে ওই ব্যয় পরিশোধের বিষয়ে অনাপত্তি নেবে।

বৈদেশিক মুদ্রা বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অনাপত্তি বিষয়ে জানাবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারীকে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে এবং মূসক (মূল্য সংযোজন কর) নিবন্ধিত হতে হবে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো চূড়ান্ত খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার স্বর্ণের বার আমদানির সময় বন্ড সুবিধা গ্রহণ করে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে স্বর্ণের বার আমদানি করার নিমিত্ত অনুমোদিত ডিলারকে আবশ্যিকভাবে আমদানি নীতি আদেশ এবং কাস্টমস অ্যাক্টের বিধানাবলি অনুসরণপূর্বক বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত বৈধ স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানিকারক সনদ নিতে পারবে। বৈধভাবে স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানি উৎসাহিত করতে রপ্তাকিারকদের স্বর্ণালঙ্কার তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে রেয়াতসহ বিভিন্ন প্রকারের প্রণোদনামূলক বিশেষ সহায়তা দেয়া হবে। স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানি করা স্বর্ণের ক্ষেত্রে ডিউটি ড্র-ব্যাক ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা দেয়া হবে।

নীতিমালায় পুরনো স্বর্ণ কেনাবেচায় স্বচ্ছতা আনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, গ্রাহকের কাছ হতে রিসাইকেল্ড (পুরনো) স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বিধানের লক্ষ্যে ওই গ্রাহক ও বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের কপি এবং পূর্ণাঙ্গ যোগাযোগের ঠিকানা সংরক্ষণ করতে হবে।

নীতিমালায় স্বর্ণের মান প্রণয়ন, যাচাই ও নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে। সরকার স্বর্ণের জন্য নিজস্ব মান তৈরি করবে।

স্বর্ণের মান যাচাই ও বিশুদ্ধ স্বর্ণের পরিমাণ যাচাই নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ল্যাবটেস্ট, ফায়ার টেস্ট বা হলমার্ক টেস্ট সুবিধাসহ পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করবে।

এই পরীক্ষাগারকে বাংলাদেশের অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাক্রিডিটেশন গ্রহণ করতে হবে।

স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কারের মান সুনিশ্চিত করার জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে হলমার্ক ব্যবস্থা চালু করতে হবে। স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার কেনাবেচার ক্ষেত্রে হলমার্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কারে খাদের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে দেশের স্বর্ণ খাতসংশ্লিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এতে বছরের চাহিদা আমদানি, রফপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, দোকান সংখ্যা, রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ, বাজেয়াপ্তকৃত স্বর্ণের পরিমাণ, নিলামে স্বর্ণ বিক্রির পরিসংখ্যান ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিডি২৪লাইভ/ 



sky television /স্কাই টিভি


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *