দুপুর ১:২০, বুধবার, ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৮ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
BREAKING NEWS
Search

কলাপাড়ায় টর্নেডোর আঘাতে ১৩৮টি পরিবারের ঈদ আনন্দ মাটিতে মিশে গেছে

53

 

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ মাত্র দেড় মিনিটের স্থায়ী টর্নেডোতে কলাপাড়ার কুয়াকাটা পৌর শহরের হুসেনাপাড়া ও পাঞ্জুপাড়া এলাকার অন্তত অর্ধশত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয় এবং বহু গাছপালা উপচে পড়ে তাদের ঈদ আনন্দ মাটিতে মিশে গেছে ১৩৮টি পরিবারের। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারদের এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে এসব পরিবার এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
জানা গেছে গেলো , ১০ জুন রবিবার ও সোমবার পর্যটন নগরী কুয়াকাটার দু’টি গ্রাম, রাঙ্গাবালী উপজেলার ৪টি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টর্নেডোতে লন্ড ভন্ড ও তছনছ করে দিয়েছে ওইসব পরিবারদের সাজানো সংসার। দেখা দিয়েছে খাদ্য, বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানিরও তীব্র সংকট। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারদের ভাগ্যে এবারের ঈদের আনন্দ মলিন হয়ে গেছে।
টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রত একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পান এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সকলেই।
চলতি মৌসুমে প্রথম দফা টর্নেডো আঘাত হানে পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় দেড় মিনিটের স্থায়ী টর্নেডোতে কুয়াকাটা পৌর শহরের হুসেনাপাড়া ও পাঞ্জুপাড়া এলাকার অন্তত অর্ধশত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয় এবং উপচে পড়ে বহু গাছপালা। আহত হন অন্তত ১০ জন। এর পরদিনই ১১ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে টর্নেডো আঘাত হানে রাঙ্গাবালী উপজেলায়। ঠিক একই দিন রাত ৯ টায় টর্নেডো আঘাত হানে রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী, তিল্লা ও নয়াভাংগুনি এবং বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ফেলাবুনিয়া গ্রামেও।
মাত্র দুই মিনিট স্থায়ী টর্নেডোর আঘাতে এসব গ্রামগুলো তছনছ হয়ে যায়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব গ্রামের লোকজন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ কেউ বর্তমানে খোলা আকাশের নিচেও রয়েছেন।
কুয়াকাটা হুসেনাপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পারভীন বেগম বলেন, ‘টর্নেডোতে ঘরবাড়ি হারাইয়া মোরা অ্যাহোন নিঃস্ব হইয়া গ্যাছি। থাল-বাসুন, চাউল-পাতি কিছুই নাই, হগোল বাতাসে উড়িয়ে লইয়া গ্যাছে। মোগো এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নাই। পোলাপান লইয়া এবার ঈদের আনন্দও কপালে সইলো না’।
একই এলাকার ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘টর্নেডো এই গ্রামটা শেষ করে ফেলেছে। একদিকে রোজা, অন্যদিকে দুইদিন পর ঈদ। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জানি না আমাদের এ গ্রামের লোজনদের ভাগ্যে ঈদের আনন্দ না ?
কুয়াকাটা পৌরসভার কাউন্সিলর তোফায়েল আহমেদ তপু বলেন, টর্নেডোর আঘাতের দৃশ্যগুলো খুবই মর্মান্তিক। ঘরগুলো উড়িয়ে নিয়ে অন্য জায়গায় ফেলে দিয়েছে। যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সব হারিয়ে এসব লোকজন অসহায়ের মত দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো উচিত আমাদের সকলের।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, আমাদের চেষ্টা মত টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পৌরসভার পক্ষ থেকে কিছু সহযোগিতা করছে।

 



sky television /স্কাই টিভি


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *