রাত ১২:১৩, মঙ্গলবার, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২০শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৯ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী
Search

গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই নক আউট পর্বে গেল উরুগুয়ে

37

চলমান রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয়ী হয়ে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে আগেই নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল উরুগুয়ে ও স্বাগতিক রাশিয়া। এই পথে তারা পিছনে ফেলেছিল গ্রুপের অপর দুই দল মিশর ও সৌদি আরবকে। সে কারণেই সামারায় অনুষ্ঠিত আজকের ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচটি ছিল শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াই। মুখোমুখি সেই লড়াইয়ে স্বাগতিক রাশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই নক আউট পর্বে উঠলো লুইস সুয়ারেজ, এডিনসন কাভানির উরুগুয়ে। গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় দিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়েই উরুগুয়ের নক আউট পর্বের যাত্রা শুরু হবে।
যে রাশিয়াকে র‌্যাঙ্কিংয়ের নীচে থাকার কারণে আলোচনায় রাখা হয়নি সেই রাশিয়াই নিজ দেশের এই টুর্নামেন্টে প্রথম থেকেই নিজেদের প্রমাণ করেছিল। আজকের ম্যাচে ড্র করতে পারলেই গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ সেরার মর্যাদাটা পেয়ে যেত স্বাগতিকরা। কারণ প্রথম দুই ম্যাচ থেকে ইতোমধ্যেই তারা ৮ গোল আদায় করে নিয়েছিল। কিন্তু উরুগুয়ে তা হতে দেয়নি। ম্যাচ শুরু আগে অবশ্য আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল রাশিয়ান শিবির। কারণ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার পরে এই প্রথম তারা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের বিশ^কাপে নক আউট পর্বে উঠেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। যদিও সেখানে তারা বেলজিয়ামের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছিল।
ম্যাচের ১০ মিনিটে রাশিয়ান ডি বক্সের বাইরে রপ্রিগো বেনটানকারের আদায় করা ফাউলে ফ্রি-কিক পায় উরুগুয়ে। একইসাথে ফাউলের কারণে রাশিয়ান মিডফিল্ডার ইউরি গাজিনিস্কিকে হলুদ কার্ড দিয়ে সতর্ক করে দেন রেফারি। সেই ফাউলেই মূলত কপাল খুলে যায় উরুগুয়ের। তারকা ফরোয়ার্ড সুয়ারেজের ডান পায়ের জোড়ালো ফ্রি-কিকে রাশিয়ান গোলরক্ষক ইগর আকিনফিভের বাম কর্ণার দিয়ে বল জালে জড়ালে ম্যাচে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকান দলটি। পরের মিনিটেই অবশ্য রাউট উইংয়ে উরুগুয়ের মিডফিল্ডার দিয়েগো লাক্সলাটের বিরুদ্ধে আদায় করা ফাউল থেকে আলেক্সান্দার সামেদোভ ফ্রি-কিক আদায় করেছিলেন। কিন্তু কর্ণারের মাধ্যমে তা রক্ষা করেন লুকাস টোরেইরা।
২৩ মিনিটে লুকাস টোরেইরার শট কর্ণারের মাধ্যমে রক্ষা করে রাশিয়ান রক্ষণভাগ। কিন্তু লুকাস টোরেইরা কর্ণার থেকে লাক্সলাটের শট ডেনিশ চেরিশভের আত্মঘাতি গোলে উরুগুয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে।
তবে রাশিয়ার জন্য ম্যাচের সবচেয়ে হতাশাজনক মুহূর্ত এনে দেন ডিফেন্ডার ইগর স্মোলনিকভ। মাত্র আট মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে ৩৬ মিনিটে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন এই ২৫ বছর বয়সী রডিফেন্ডার। যে কারণে বাকি সময়টা স্বাগতিকদের ১০ জন নিয়েই খেলতে হয়েছে। দুই মিনিটের মধ্যে রাশিয়া চেরিশেভের জায়গা মারিও ফার্নান্দেজকে বদলী করে ম্যাচ ফিরে আসার চেষ্টা করেছে। তবে ওই ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় স্বাগতিকদের।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু সাথে সাথে সুয়ারেজ ও কাভানি মিলে রাশিয়ান রক্ষণভাগে আক্রমণ চালান। কাভানির ফ্রি-কিক রাশিয়ান দেয়ালে লেগে ফেরত আসে। কাউন্টার এ্যাটাক থেকে রাশিয়াও ফ্রি-কিক আদায় করে নেন। কিন্তু ডি বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকটি বারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন আলেক্সান্দার সমোদেভ। বেনটাকার নিজের সৌভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা করলেও বারবার তাকে হতাশ করেছেন স্বাগতিক ডিফেন্ডাররা। উল্টো রোমান জোবনিনকে বাজেভাবে ফাউলের কারণে তাকে ৫৯ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছে। ৬৪ মিনিটে সার্জেই ইগানশেভিচের বিপক্ষে একটি কাভানির একটি পেনাল্টির আবেদন নাকচ হয়ে যায়।
ম্যাচের সময় যত গড়িয়েছে উরুগুয়েল বল পজিশনের দিক থেকে ততই এগিয়ে গেছে। যদিও শেষ ২৫ মিনিটে কাভানি টুর্নামেন্টের প্রথম গোলের আশায় বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছেন। দিয়েগো গোডিনের একটি চ্যালেঞ্জে ডিজুবার পেনাল্টির আবেদন ভিএআর’র সহায়তায় বাতিল করে দেয়া হয়। অবশেষে ম্যাচের শেষ মিনিটে শেষ হাসি হাসেন কাভানি। বাম দিকের কর্ণার থেকে গোডিনের হেড আকিনফিভ দারুনভাবে রুখে দিলেও ফিরতি বলে কাভানি পা ছুঁয়ে উরুগুয়ের জন্য তৃতীয় গোল উপহার দেন। আর এই গোলেই রাশিয়াকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই নক আউট পর্বে গেল আত্মবিশ^াসী উরুগুয়ে।(বাসস)



sky television /স্কাই টিভি


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *