নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম হোটেল বয় থেকে এখন কোটিপতি।

0
659
হোটেল বয় থেকে ইউপি মেম্বার, শূন্য থেকে কোটিপতি
বিশেষ  প্র্রতিনিধি:নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি
সদস্য নজরুল ইসলাম হোটেল বয় থেকে এখন কোটিপতি। এক সময় তিনি
ছিলেন গ্রীন লাইন পরিবহনের সুপারভাইজার। এখন কোটিপতি। তৈরী করছেন
আলিসান বাড়ি। স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নাম ব্যবহার করে
চালাচ্ছেন বিভিন্ন ব্যবসা, প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, জমি দখল। এমনকি তিনি
এক ইউপি সদস্যেকে নিয়ে নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে পড়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাঁচপুরে অবস্থিত অলিম্পিক কারখানায় নতুন কোন
শ্রমিক কাজের জন্য আসলে আগে মেম্বার নজরুল ইসলামকে মোটা অঙ্কের টাকা
দিতে হয়। কারখানায় ঢোকার পর বেতন থেকে প্রতিমাসে কমিশন দিতে হয় তাকে।
এভাবে প্রতিমাসে অলিম্পিক কারখানা থেকে অর্ধকোটি টাকা টাকা চাঁদা
আদায় করছেন। তার এ অপকর্মে সহযোগী ও মাসোহার নিচ্ছেন ইউপি
চেয়ারম্যান।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এক সময় নজরুল ইসলাম ছিলেন হোটেল বয়। এখন
তিনি কোটিপতি। বাড়িতে তৈরী করছেন বহুতল ভবন। তার নেতৃত্বেই চলছে শহরের
বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম। এখন
তার কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে কেউ ব্যবসা করতে পারে না। অল্প সময়ের
ব্যবধানে হোটেল বয় থেকে কীভাবে বিলাসবহুল বাড়ি, প্রভাব-পতিপত্তি ও কোটি
কোটি টাকার মালিক হওয়া যায় তার অসখ্য উদাহরণ নজরুল ইসলাম। সরেজমিন
ঘুরে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। বালু ব্যবসা করছেন এই নজরুল ইসলাম। এ দিকে,
কাঁচপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে মেম্বার
নজরুল ইসলাম প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার ইচ্ছাই চলে ইউনিয়ন
পরিষদের কার্যক্রম। সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক সদস্য পরিষদে আসেন না। এমন
অভিযোগ করেছেন এক ইউপি সদস্য। তিনি বলেন, পরিষদের সকল বরাদ্দ নজরুলের
ইচ্ছায় ভাগ-বণ্টন হয়। প্রকল্পগুলো সদস্যদের মধ্যে কিছুটা বণ্টন হলেও রাজস্বখাতের
এক ভাগ আয়ের টাকা এককভাবে তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন। আতঙ্কিত এলাকাবাসী
নজরুল বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের কথা গ্রামবাসীর কাছে তুলে ধরে নজরুল ইসলাম মেম্বার
নির্বাচিত হন। এরপর সরকারি বরাদ্দ লুটপাট ও অশোভনীয় আচরণের মাধ্যমে
বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। মেম্বার হয়েই রদ্রমূর্তি ধারণ করেন। সরকারি বরাদ্দ
বিক্রি, চাঁদাবাজি, সালিস বাণিজের ্যনামে পকেট ভারী করে তিনি এখন
কোটিপতি। ক্ষমতার দাপটে শুধু ইউনিয়নের মানুষকে জিম্মি নয়, হামলা-মামলা
দিয়েও কোণঠাসা করেছেন। প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হতে হয়
গ্রামবাসীকে। এছাড়া নজরুল ইসলামের রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। তারা
হলো-বিপ্লব, সোহরাবসহ আরো অনেকে। তারাই নিয়ন্ত্রন করে চাঁদাবাজির
দিকটি।
জানা গেছে, লাল মিয়া হত্যার আসামিরা জামিনে বেড়িয়ে এসে জমি দখল করতে
একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে আনোয়ার হোসেন ও তার ক্যাডার
বাহিনী। আর এর পিছনে ইন্ধন জোগাচ্ছেন ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম। তিনি
মিমাংসার কথা বলে জমির জালিক খোরশেদকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ
করছেন। জমির মালিক খোরশেদ বলেন, কাচপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি
সদস্য নজরুল ইসলাম মিমাংসার তার নামে জমির পাওয়ার দিতে বলে। অন্যথায় এর
সমাধান হবে না বলে ওই ইউপি সদস্য জানান। এছাড়া প্রতিপক্ষ আনোয়ার
হোসেন জমি দখলে নিতে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই
সাবেক ইউপি সদস্য নাজমুল বলেন,
মেম্বার নজরুল ইসলাম আমার সংসার ভেঙ্গে
দিয়েছে। আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সর্বশান্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি। আমাকে
এলাকা ছাড়া করেছে এই নজরুল মেম্বার। এলাকার নিরীহ মানুষের জমি দখল, মিথ্যা
মামলা দিয়ে হয়রানি করাই নজরুলের কাজ। এখন আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠ
বিচার চাই।
টর্চার সেল : কাঁচপুর ইউনিয়নের এর পাশেই রয়েছে নজরুলের একটি টর্চার
সেল। সেখানেই চলে নিরীহ মানুষদের উপর বিচার-শালিশের নামে অত্যাচার আর
নির্যাতন।
জমি দখল : ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম ক্ষমতার জোরে সাধারণ-নীরিহ মানুষের
জমি দখল করছেন। জমি দখল করে সেখানে টিন দিয়ে আটকিয়ে বেড়া হয়। এভাবে
এলকার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার দখলকৃত জমি।
নারী কেলেঙ্কারী: ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম একই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি
মেম্বার নাজমুলে স্ত্রী ১, ২ ও ৩ নং সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পারুল আক্তারকে বিয়ের
প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি জানাজানি
হলে পারুলের সাথে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এদিকে নজরুল মেম্বারের
সাথে পারুল মেম্বারের সম্পর্কের বিষয়টি সবাই জেনে যায়।
কে নজরুল ইসলাম : সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ললাটি গ্রামের
মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে নজরুল ইসলাম। ছোট বেলায় অভাব অনটনের কারণে তিনি
একটি হোটেলে গ্লাস-প্লেট ধোয়া ও টেবিল মোছার কাজ নেন। দীর্ঘদিন
সেখানে কাজ করার পর গাড়ির সুপারভাইজারের কাজ নেন। এরপর থেকেই শুরু হয়
বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও জমিদখল সহ বিভিন্ন অপকর্ম। একসময় তিনি ক্ষমতার
দাপটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। তারপর থেকে আর তাকে পিছনে ফিরে
তাকাতে হয়নি। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আর্শীবাদপুষ্ট হওয়ায় হঠাৎ করে কোটি
টাকার মালিক বনে যান। নজরুল ইসলাম তার অপকর্ম আড়াল করতে নিয়মিত
মাসোহারা দিচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কাঁচপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে।
এছাড়া সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের সাথে
মেম্বার নজরুল ইসলামের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তাকেও নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে
বিভিন্ন রকম অপকর্ম করে যাচ্ছেন এই ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম।
এক ইউপি সদস্যের অভিযোগ- টিআর, কাবিখাসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা
দিতে নজরুল ইসলাম চাহিদামতো টাকা আদায় করেন।
এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলকার প্রতিটি ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে হামলা-মামলা দিয়ে তাদের
বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এমনকি টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নজরুল মেম্বারকে হোটেলে কাজ করতে দেকেছি। এক
সময় সে গ্রীন লাইনের সুপারভাইজারও ছিল। রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে শূন্য থেকে
কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া যায় নজরুল ইসলাম তার উদাহরণ।
তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম এত টাকা কোথায় পেল ? এই প্রশ্ন শুধু আমার নয়,
এখানকার প্রতিটি মানুষের। দুর্নীতি দমন কমিশন সুষ্ঠ তদন্ত করলেই নজরুলের থলের
বিড়াল বেড়িয়ে আসবে।
নজরুল মেম্বারের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে পারুল মেম্বার বলেন,
আমি মানসিক চাপে আছি। কিছু জানার থাকলে আমার বাসায় এসে পরিচয়পত্র
দেখিয়ে কথা বলেন।
উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে
আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, কেউ যদি অন্যায়ভাবে কারো
বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করে থাকে তাহলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।সাবেক মেম্বার  আমাদের  বিশেষ প্র্রতিনিধি কে ফোনে বলেন বর্তমান  মেম্বার  নজরুলইসলাম ও মহিলা মেম্বার  পারুল  এর  লোক জন   তারে  জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে  ,তাই   তিনি   সরকারের   কাছে   নিজের জীবনের  নিরাপত্তা দাবি জানান ,এলাকার মানুষের দাবি এই নজরুল মেম্বার ও পারুল মেম্বার গং দের বিচার দাবি জানান