রাত ১০:০৪, মঙ্গলবার, ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
BREAKING NEWS
Search

দুদক টিকিটিও ছুঁতে পারেনি তার

50

 

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সহকারী নেছার উদ্দীন’র লাগামহীন দূর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর গন শুনানীতে উত্থাপন করেও বন্ধ করা যায়নি। এক অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে অভিযুক্ত নেছার উদ্দীন একই কর্মস্থলে এক যুগের অধিক সময় কর্মরত থেকে অব্যাহত ভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি করলেও দুদক তার টিকিটিও ছুঁতে পারেনি, বরং উল্টো অভিযোগকারীকে হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী নেছার উদ্দীনকে ঘুষ না দিলে পদে পদে হয়রানি হতে হয় সাধারন শিক্ষকদের। শিক্ষকদের বেতন ভাতা, অনলাইন অগ্রায়নের সময় তাকে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়। সরকারের বিনা মূলে বিতরনের মাধ্যমিক শাখার সকল বই এর জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে টাকা দিতে হয়। এমনকি অফিস থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই পৌঁছানো বাবদ প্রতি বইতে তাকে পরিবহন ভাড়া দিতে হয়। অথচ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকার খরচ দিয়ে থাকেন। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে অদ্যবদি সরকারী বই পরিবহন ভাড়া কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পায়নি। উল্টো ঢাকা থেকে উপজেলায় বই আনা পরিবহন খরচের নামে অবৈধভাবে প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০০-১০০০ টাকা দিয়ে বই নিতে হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেও কোন ফল হয়নি।এছাড়া প্রত্যেকবার উপবৃত্তির টাকা প্রদানে প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০০ টাকা করে উৎকোচ আদায়, শিক্ষক/কর্মচারীদের নতুন এমপিও, টাইম স্কেল, ইনডেক্স সংশোধন ইত্যাদি অনলাইনে আবেদন অগ্রায়নে ৫-১০ হাজার টাকা দিতে হয় তাকে। প্রতিষ্ঠানের সাধারন তথ্য জমাদানে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা, উপবৃত্তির কাগজপত্র জমাদানে প্রতিষ্ঠান প্রতি ২ হাজার টাকা, মনিটরিং ফরম জমা দানে ৫ শত টাকা, উপবৃত্তির আপিল ফরম জমাদানে ২ হাজার টাকা, ইএমআইএস ও ব্যানবেইজ বার্ষিক জরিপ হার্ড কপি জমাদানে ৬০০ টাকা করে, বিদ্যালয়ের মাসিক বেতনের রিটার্ন ফরমের জন্য ২০০ টাকা, বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন কল্পে সেকায়েপ কর্তৃক আর্থিক অনুদানের আবেদন অগ্রায়ন ইত্যাদি সকল আর্থিক কর্মকান্ডে ১০% হারে ঘুষ দিতে হয় ছাত্র শিবিরের এই সাবেক নেতাকে।

শিক্ষকরা আরো জানান, অফিস সহকারী নেছারের চাকুরীকালীন সময়ের মধ্যে ৭/৮ জন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলী হলেও অফিস সহকারী নেছার উদ্দিন এর কোন বদলী হয়নি। এর আগে গত ১লা ফেব্রুয়ারী ২০১৭ কলাপাড়ায় দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) এর গন শুনানী চলাকালে নেছার উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে লালুয়া এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ জুনায়েত হোসেন একটি লিখিত অভিযোগ উত্থাপন করেন। ওই সময় দুদক কর্মকর্তারা অভিযোগকারীকে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে রহস্যজনক কারনে তার টিকিটিও ছুঁতে পারেনি দুদক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষা অফিস সহকারী নেছার উদ্দীন দুদকের গন শুনানীতে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি ছিল তার বিরেুদ্ধে নিছক ষড়যন্ত্র। কিন্তু একই স্থানে এক যুগ ধরে কর্মরত থাকার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।



sky television /স্কাই টিভি


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *