রাত ১২:১৩, মঙ্গলবার, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২০শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৯ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী
Search

সীমান্তে গুলিতে মৃত্যু ‘শূন্যের কোঠায়’, ভারতের দাবি। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে ভিন্ন কথা।

28
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গুলিতে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে – ভারত এমন দাবি করলেও বাংলাদেশেন কিছু মানবাধিকার সংগঠন একথা মেনে নেয় নি।

ঢাকায় আজ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের এক বৈঠকে এমন দাবি করে ভারত।

কিন্তু বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গত ছয় মাসেই সীমান্তে গুলিতে তিনজন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে।

ভারতের সাথে ৪০০০ কিলোমিটারের বেশি বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশের নাগরিককে হত্যার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এ ধরণের ঘটনা বন্ধ করার ব্যাপারে ভারত বিভিন্ন সময় বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে।

ঢাকায় বাংলাদেশ এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও আলোচনায় সীমান্ত ইস্যু গুরুত্ব পায়।

জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন জানিয়েছেন, সীমান্তে মানুষের মৃত্যু জিরোতে বা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সে জন্য ভারত তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেছে।

তবে ভারত যে দাবি করেছে, তার সাথে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো একমত নয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর আদিলুর রহমান খান বলেছেন, গত ছয় মাসেই সীমান্তে গুলি করে তিনজন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে।

“সীমান্তে গত ছয় মাসেও কিন্তু তিনজন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে এবং অনেক মানুষ আহত হয়েছে। সীমান্তে মানবাধিকার লংঘন চলছে এখনও। কিন্তু কী কী ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে, সেটা আমরা জানতে পারলে ভাল হতো” – বলেন মি. খান।

 

 ছবির কপিরাইট 
 ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গুলিতে মৃত্যু কমে আসার দাবি করছে ভারত

সন্ত্রাস দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা মনে করেন। বৈঠকে তারা আবারও একে অপরের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দেয়ার কথা তুলে ধরেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, বাংলাদেশ কখনই সীমান্তে ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কোনো রকম তৎপরতা চালাতে দেবেনা।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোতে সমাধান হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাতেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার প্রশ্নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর এবং আবেগপূর্ণ। বৈঠকে তারা সীমান্ত ইস্যুসহ অনেক বিষয় নিয়েই আলোচনা করেছেন। কোন ইস্যুতেই তাদের দ্বিমত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তাঁদের বৈঠকে পঁয়ষট্টি বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশের নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ভারতে পাঁচ বছরের মাল্টিপল ভিসা দেয়ার ব্যাপারে চুক্তি সই হয়েছে।

ঢাকায় তিনদিনের সফরের শেষদিনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মি: খানের সাথে বৈঠকের পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি।

তবে সেখানে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন সব বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মোহসিন মনে করেন, দুই দেশ স্ব স্ব স্বার্থেই সন্ত্রাস দমনে বেশি জোর দিচ্ছে এবং সেটা কার্যকরও হচ্ছে।

“সন্ত্রাসবাদ দমনে আমার মনে হয়, ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং বলেন, এগুলোতো হচ্ছেই এবং সহযোগিতা হচ্ছে। দু’দেশই এখানে কনসার্নড। কারণ এটা এমন একটা সমস্যা যেটা কোনো একক দেশের সমস্যা না। একটা ট্রান্সন্যাশনাল সেটা রূপরেখা আছে।”

“বাংলাদেশে কিছু হলে ভারত নিরাপদ থাকবে না , আবার ভারতে কিছু হলে তা বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ নয় । সেই সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়গুলো এগুচ্ছে বলে আমার মনে হয়।”বিবিসি বাংলা



sky television /স্কাই টিভি


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *