রাত ১১:৩২, সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
BREAKING NEWS
Search

প্রভাবশালী মহলসহ পুলিশ প্রশাসনের নাটকীয় ভূমিকা ॥ কুয়াকাটায় আটকে রেখে তরুনীকে ধর্ষনের অভিযোগ ॥

65

 

, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ কুয়াকাটায় টানা ১৫দিন আটকে রেখে এক তরুনীকে (১৯) পালাক্রমে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষনের শিকার ওই তরুনী রবিবার (১৫ জুলই) ভোররাতে পালিয়ে পার্শবর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। ঘটনার পরপরই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে পালিয়েছে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত শাহজাহান ও শাহআলম। ওই তরুনী বরগুনা জেলার ৯নং পাতাকাটা গ্রামের আনিচ পাহলানের কন্যা।
ধর্ষনের শিকার ওই তরুনী জানায়, সৎ মায়ের প্রতিনিয়ত অত্যাচারে টিকতে না পেরে কাজ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পনের দিন পূর্বে পালিয়ে কুয়কাটায় আসে। কুয়াকাটায় আসার পরে পরিচয় জেনে আশ্রয় এবং কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কুয়াকাটা পৌর মার্কেটের রুমানা হোটেলে এন্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মালিক শাহাজাহান তাকে কাজ দেয়। নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সেদিন রাতেই ওই তরুনীকে ধর্ষন করে শাহজাহান। পরবর্তীতে পাশের সেলুনের শাহআলমও তাকে ধর্ষন করে। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হোটেলে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করে। পালিয়ে আসার ২/৩দিন পূর্বেও মহিপুরে শাহজাহানের চায়ের দোকানে দুদিন আটকে রেখে তাকে ধর্ষন করে শাহজাহান। সুযোগ পেয়ে ওই তরুণী পাশের এক দোকানের বাবুর্চি সালাম ও খলিলের বাসার পাশের মহিলাদের কাছে গিয়ে প্রাণ বাচাতে আকুতি জানায়।
কুয়াকাটা ৩নং ওয়ার্ড পৌর যুবলীগের সভাপতি ইউসুফ জানান, বিষয়টি স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার শাহআলমকে অবহিত করে মটরসাইকেল চালক খলিলের সহায়তায় মেয়েটিকে মহিপুর থানা পুলিশের হেফাজতে পৌছে দেয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী একজন খলিল জানান, বাসার অন্যান্য মহিলাদের কাছে বিষয়টি জানতে পেরে তাকে (মেয়েটিকে) মেয়র সাহেবের বাসায় নিয়ে যাই। পৌরসভার কাউন্সিলর শাহআলম জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অভিযোগ তিনি শুনেছেন। মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা জানান, ওই মেয়েটিকে যখন তার বাসায় নেয়া হয়েছে তখন তিনি বাসায় ছিলেননা। তাই ফোন করে মেয়েটিকে থানায় পৌছে দেয়ার জন্য বলেছেন।
কিন্তু মহিপুর থানার ওসি মিজানুর রহমানা জানান, তার কাছে কোন তরুনীকে কেউ পৌছে দেয়নি। অভিযোগের বিষয়টি লোকমুখে জানতে পেরে তিনি খোঁজ-খবর করছেন। অভিযুক্তদের ধরে আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আর ভিকটিমকে পেলে মামলা নেয়া হবে।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত শাহজাহানের মুঠোফোন (০১৭২১১৩০২৮৪) একাধিকবার ফোন করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্তদের একজন শাহআলম জানান, টোটাল বিষয়টি একটি ষড়যন্ত্র। সম্পুর্ণ মিথ্যা। গতকাল শনিবার রাত ১১ টা পর্যন্ত তিনি তার এক নিখোঁজ নাতিকে খুজেছেন। তিনি এ ঘটনা বিকাল পাঁচটার দিকে তার স্ত্রীর কাছ থেকে শুনে হতবাক বনে গেছেন বলে দাবি করেন।
এদিকে একাধিক সুত্র বলেছে, ওই মেয়েকে তার সৎ মায়ের যোগসাজশে একটি প্রভাবশালীমহল সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। অভিযুক্তদের বাচানোর জন্য চলছে নানান কৌশল। বর্তমানে এনিয়ে চলছে বিভিন্ন ধরনের নাটক। তবে ভিকটিম এবং উদ্ধারকারীদের জবানবন্দী ভাইরাল হয়ে গেছে বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে গোটা বিষয়টি কুয়াকাটায় এখন সবার মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে।



sky television /স্কাই টিভি


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *