বিকাল ৫:৫৮, রবিবার, ৩১শে ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ১৬ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
BREAKING NEWS
Search

সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ॥ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে কুয়াকাটা সৈকত ॥

306

 

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বেলাভূমি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে অব্যাহত বালু ক্ষয়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতের প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। গত দুই দিন ধরে দু’দফা অস্ব^াভাবিক জোয়ারের তান্ডবে অন্তত ২০ ফুট প্রস্থ সৈকতের দীর্ঘ বেলাভুমি বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে সৈকত লাগোয়া নারিকেল বাগানসহ জাতীয় উদ্যোনের শত শত গাছপালা উপড়ে পড়েছে। এছাড়া ক্রমশই ধ্বংস হতে বসেছে কুয়াকাটার মনোমুগ্ধকর ইকোপার্কটি। সৈকতে বসা ক্ষুদে দোকানিরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনেক বার স্থান পরিবর্তনও করছে। তবে ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় কুয়াকাটার স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিনিয়োগকারীরা চরম উৎকন্ঠায় মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের সমুদ্রের অব্যাহত ভাঙ্গনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কুয়াকাটা সৈকত। এতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। সমুদ্রের ঢেউয়ের ঝাপটায় ও অব্যাহত বালু ক্ষয়ে সৈকত লন্ডভন্ড হয়ে যায়। গত ১০ বছরের ব্যবধানে লতাচাপলী মৌজার কয়েক হাজার একর জমি সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে কুয়াকাটার মূল রক্ষা বাঁধসহ সবুজ বেষ্টনি, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান ও মসজিদ-মন্দির। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ৪৮নং পোল্ডারের খাজুরা-মাঝিবাড়ি ও মিরাবাড়ি সংলগ্ন বেড়ি বাঁধ।
স্থানীয় ব্যবসায়িরা জানায়, কুয়াকাটা ফার্মস এন্ড ফার্মস নামে বাগানটির নাম করণ থাকলেও সারি সারি নারিকেল গাছ থাকায় নারিকেল বাগান হিসেবেই সকলের কাছে পরিচিত ছিল। গাড়ি পার্কিং, পিকনিক স্পট, পর্যটকদের বিনোদন কেন্দ্র ছিল এ বাগানটি। কিন্তু কালের বিবর্তনে বাগানটি আজ শুধুই স্মৃতি।
আশার আলো মৎস্যজীবি জেলে সমবায় সমিতির লি:এর সভাপতি নিজাম শেখ জানান, বর্তমানে সাগর উত্তাল। আস্বাভাবিক পনি বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় বড় ঢেউ তীরে আছরে পড়ছে। বিশেষ করে সৈকত লাগোয়া মাঝিবাড়ি পয়েন্টের বেরিবাঁধ চরম হুমকির মুখে রয়েছে।
স্থায়ীবাসিন্দা ও কুয়াকাটা যুবলীগের আহ্বায়ক ইসাহাক শেখ জানান, সাগরের ঢেউয়ের ঝাপটায় সৈকতের বালু ক্ষয় হয়ে বেশ কিছু গাছ পালা নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে প্রতি নিয়ত বালু ক্ষয় হলে সৈকতের সৌন্দর্য্য হারাবে। জরুরী ভিত্তিতে সৈকতের বালু ক্ষয় রোধ করা প্রয়েজন বলে তিনি জানিয়েছেন।
কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ:বারেক মোল্লা জানান, কুয়াকাটা রক্ষা বাঁধ ক্রমশই ঝুঁকিপুর্ন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরির্দশনে করে দেখেছেন বলে তিনি জানান।
কলাপাড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবুল খায়ের জানান,জরুরী অস্থায়ী প্রতিরক্ষার জন্য ৮ শত মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী প্রটেকশনে জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্প আকারে প্রস্তাবনা দেওয়া রয়েছে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।



sky television /স্কাই টিভি


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *