অসময়ে বৃষ্টির কারনে ফরিদগঞ্জে ইটভাটা মালিকদের অপুরনিয় ক্ষতি

0
197

এমরান হোসেন লিটনঃ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় অসময়ের বৃষ্টিতে ২০টি ইটভাটায় প্রস্ততকৃত কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইটভাটার মালিকরা। ফরিদগঞ্জে উপজেলার গল্লাক, কামতা , মুন্সিরহাট, গাজীপুর সহ আরো কয়েক জায়গায় প্রায় ২০টি ইটভাটা রয়েছে। এইসব ইটভাটায় এই শীত মৌসুমের বৃষ্টিতে এবং পাশাপাশি রোদ না থাকায় প্রস্ততকৃত কাঁচা ইট পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া মেঘাচ্ছন্ন আবহ্ওয়ার কারনে আগুন নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

শীত মৌসুমে উপজেলার প্রায় ২০টি ইটভাটায় পুরোদমে চলছে ইট তৈরীর কাজ। ব্যস্ত সময় পার করছেন ইট তৈরীর কারিগররা। কিন্তু হটাৎ করে অসময়ের বৃষ্টিতে ইটভাটাগুলোর তৈরীকৃত কাঁচাইট নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে ইটভাটার মালিকরা। এতে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে ইটভাটা মালিকদের। সেই সঙ্গে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারনে নতুন ইট তৈরী করতে পারছেন না মালিকরা। ইটভাটার মালিকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ও ব্যাংক ঋন নিয়ে হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

লাইসেন্স পাওয়া পলাশ এন্ড ব্রাদার্স ইট ভাটার মালিক আলহাজ্ব মফিজুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি অত্যন্ত আবেগ আপ্লুত হয়ে এ প্রতিনিধিকে বলেন, ধার দেনা করে এবং ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ইটভাটা দিয়েছি। অসময়ে বৃষ্টির ফলে সব শেষ হয়ে গেল। বৃষ্টির কারণে তার এবছর প্রায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে তিনি জানান। সুবিদপুর ইটভাটার মালিক মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন আমরা প্রত্যেকেই ব্যাংক লোনের উপর নির্ভরশীল। এবং বিভিন্ন সমিতি ও প্রবাসীদের কাছ থেকে হাওলাত নিয়ে ব্রিকফিল্ড পরিচালনা করি। কিন্তু এবছর অসময়ে বৃষ্টির কারণে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। যার কারণে তার ৪০/৫০ লাখ টাকা লস হবে বলে তিনি জানান। এরকম আরো ৮/১০ জন ইটভাটার মালিকের সাথে কথা হলে প্রত্যেকের একই ধরনের কথা পাওয়া যায়।

তাদের প্রত্যেকের দাবি ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে সরকার বড় ধরনের সুবিধা নেয়। তাই কর্তৃপক্ষ অচিরেই ক্ষতিগ্রস্ত ইটভাটাগুলোর তালিকা তৈরী করে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতার দাবী জানিয়েছেন ইটভাটার মালিকরা।
ক্যাপশন: অসময়ে বৃষ্টির কারনে ফরিদগঞ্জের ইটভাটা গুলোর ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য।

এমরান হোসেন লিটন