রাত ১১:১৯, সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
BREAKING NEWS
Search

কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন .ভোটারা রয়েছে চরম উৎকন্ঠায় , সাউন্ড সন্ত্রাসের অভিযোগ ॥

66

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি  কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর লাগোয়া লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটাররা রয়েছে চরম উৎকন্ঠায়। আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কে হবে চেয়ারম্যান। এনিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা। ভোটাররা করছেন চুলচেরা বিশ্লেষন। এ নির্বাচনে মোট চার জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে লড়াই করছেন। এদের মধ্যে একজন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। প্রতিদিন দুপুর থেকে মাইকে প্রচারনা ছাড়াও ব্যানার, ফেস্টুন, পোষ্টার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে গোটা ইউনিয়ন। নির্বাচনকে ঘিরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। ঝর বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু সাউন্ড সন্ত্রাসের আতংকে গোটা নির্বাচনী এলাকারা ভোটাররা সংকিত হয়ে পড়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মো.শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস (ঘোড়া) প্রতিক নিয়ে লড়ছেন , ওই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মীর তারিকুজ্জামান তারা আওয়ামী লীগ (নৌকা), মো.স্বজল বিশ্বাস বিএনপি (ধানের শীষ), মো.জসিম উদ্দিন মৃধা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (পাখা) মার্কার প্রার্থী রয়েছে। তবে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো.শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস (ঘোড়া) প্রতিক নিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করায় বিপাকে পড়েছে আওয়ামী লীগ। সাধারন সদস্য পদে ৩৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছে। ভোটারদের মধ্যে আনন্দ উৎসব থাকলেও বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা।
একাধিক ভোটারদের সাথে কথা বলে জনা গেছে, নির্বাচন সুষ্টু হবে কি না, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কিনা, প্রশাসনের দৃষ্টি নিরপেক্ষ থাকবে তো এসব আতঙ্ক কাজ করছে তাদের মধ্যে। অনেকে প্রকাশ্যে কথা বললেও আধিকাংশ ভোটার রয়েছে একবারেই চুপচাপ।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জান গেছে, এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮০০ শত ১৫ জন । এর মধ্যে পুরুষ ৫৮৫৫ ও মহিলা ৫৯৬০। আগামী ২৫ জুলাই লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপি মনোনীত চেয়াম্যান প্রার্থী ও সাবেক ছাত্র নেতা মো. স্বজল বিশ্বাস বলেন, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কিনা এ নিয়ে আমার ভোটাররা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তবে নির্বাচিত হতে পারলে এ ইউনিয়ন থেকে সন্ত্রাস ,মাদক ও বাল্য বিবাহের রোধ করা হবে।
আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে জনগন আমাকে বাধ্য করেছে। সে কারনেই আমি নির্বাচন করছি। জয় পরাজয় আল্লাহর হাতে। কিন্তু বর্তমান চেয়াম্যান ও তার বাহিনীরা ভোট কেটে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া সরকার দলীয় সমর্থকরা সাউন্ড সন্ত্রাসের মাধ্যমে আতংক সৃষ্টি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়াম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মীর তারিকুজ্জামান তারা জানান, বিগতদিনে আমি জনগনের পাশেই ছিলাম। সে কারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিয়েছে। আর জনগন আমাকেই ভোট দেবে। তবে আভিযোগোর কথা অস্বিকার করে তিনি বলেন তারাই অচারন বিধিলঙ্ঘন করেছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকতা মো. আব্দুর রশিদ জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রশাসনের পক্ষে থেকে মোবাইল ফোর্স, ষ্টাইকেন ফোর্স, র‌্যাব , বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা থাকবেন। এছাড়া ৩জন নির্বাহী মেজিস্ট্রেট থাকবে।

 



sky television /স্কাই টিভি


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *